মানুষ ১৯৬৯ সালে চাদে মানুষ পাঠাতে পারলে এখন পারছেনা কেন?

চাদে-ভ্রমণ

(anonymous) #1

নাসা যদি ১৯৬৯ সালে সফলভাবে চাদে মানুষ পাঠাতে পারে তবে এই ২০১৮ সালে এসেও কেন আর একবার পারছে না?
এ ব্যাপারটা পুরো বোগাস মনে হয় আমার।
তাছাড়া এটা যে হলিউডের শুটিং ছিল সেটা অনেককেই বলতে শুনেছি।

আপনার কাছে কি মনে হয়? এ ব্যাপারটা কতখানি সত্যি?


(Sayem Hossain) #2

লেখা দেখে মনে হচ্ছে আপনি কনস্পায়রেসী থিয়োরিস্টদের একজন।

মানুষ যখন মহাকাশ এক্সপ্লোরেশন শুরু করে তখন মহাকাশ স্টেশন স্থাপন করাই ছিল সবচেয়ে বড় টার্গেট। চাদে ভ্রমণ করাটাও ছিল তার পরে এমন একটা টার্গেট যেটা কখনো অতিক্রম করেনি মানুষ কখনো। পৃথিবীর ভূখণ্ডের বাইরে অন্য কোন ভূখণ্ডে পা রাখতে পারাটা একটা রিভোল্যুশন, যা সায়েন্স টেকনোলজির গতিপথই পরিবর্তন করতে পারে।
এরকম একটা অভিযানের অনেকগুলো উইক পয়েন্ট আছে।

১। উপযোগীতা
২ । ফান্ডিং
৩ । ফিলিক্যাল রিস্ক
৪ । পলিটিক্স

এরকম অভিযানে প্রচুর পরিমাণ টাকা এবং রিসোর্স প্রয়োজন হয়। যার জন্য প্রচুর ফান্ডিং প্রয়োজন। নাসা একটা গভর্নমেন্ট এজেন্সি, তাদের পুরো বাজেটই আছে ইউএস সরকার থেকে। কাজেই চাদে অভিযানের উপযোগী নতুন কোন মহাকাশযান তারা চাইলেই বানাতে পারবে না। এজন্য পুরো ইউএস সিনেটের অনুমতি প্রয়োজন, এরকম হিউজ বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে তাদেরকে।
কিন্তু তারা সেটা চায় না।
কেন চায় না জানেন? কারণ চাদে ভ্রমণের কোন উপযোগিতা নেই।
১৯৬৯ সালে চাদে প্রথমবারের জন্য মানুষের পদচিহ্ন রাখতে পারাই ছিল অনেক বড় ব্যাপার। এখন আর ব্যাপারটা তেমন নাই। এখন মহাকাশ অভিযানের প্রধান মোটিভ হচ্ছে মানবতার বসবাসের উপযোগী দ্বিতীয় আবাসস্থল খোজা এবং জীবনের সন্ধান করা।
বিলিয়ন ডলার খরচ করে এবং রিস্ক নিয়ে শুধুশুধু চাদে গিয়ে আবার ফেরত আসার কোন মানে হয় না। কারণ সেটা মানুষের বসবাসে অনুপযোগী, এবং যদি বসবাসের উপযোগীও হয়, তবুও আবাসস্থল গড়া ওর্থ না।

পৃথিবীর চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে আবর্তন করে। কাজেই পৃথিবীর ভাগ্যে কিছু ঘটলে চাঁদকেও সেই ভাগ্য বরন করতে হবে। কোন বায়ুমণ্ডল, পানি নেই, এবং সাইজ পৃথিবীর সাইজের ৫০ ভাগের এক ভাগ। কাজেই গ্রাভিটিও খুব কম। বেশিদিন থাকলে মানুষের বডি স্রিংক করবে পর্যাপ্ত গ্রাভিটির অভাবে।
দ্বিতীয় আবাসস্থল বানানোর কোন সুযোগ নেই, লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না।

১৯৬০-৭০ এর দশকে ইউএস এবং রাশিয়ার মধ্যে মহাকাশ অভিযানে অনেক প্রতিযোগিতা ছিল। একজন একটা রকেট পাঠালে আরেকজন একধাপ এগিয়ে আরও বেশী ইনভেস্ট করত আরও অ্যাডভানসড টেকনোলজির মহাকাশযান পাঠাতে। কাজেই পলিটিক্যাল লিডাররা অ্যাকটিভলি ফান্ডিংএর অনুমতি দেয়ার চেষ্টা করত। ঐ সময়ে ইউএস এর পুরো বাজেটের ৫% ই বরাদ্দ ছিল নাসার জন্য (যেটা এখন 0.5%)

কিন্তু এখন এরকম বাজেট অনুমোদন করা খুবই কঠিন। বিশেষ করে, অভিযানের কোন কারণ ছাড়া।